স্টাফ রিপোর্টার বেনাপোল, বেনাপোল (যশোর): এবার করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের দেশে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন। এতে দেশে ফিরতে না পারায় বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটকা পড়েছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় তিন শতাধিক ভারতীয় যাত্রী। দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বাংলাদেশ
সরকারের মাধ্যমে ভারত সরকারের দৃষ্টি আকর্শন করেছেন।
সোমবার(২৩ মার্চ) বিকাল ৫ টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের এ নিষেধাজ্ঞায় গতকাল থেকে বেনাপোলে আটকা পড়ে আছে এসব যাত্রীরা।
এদিকে হঠাৎ করে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের এমন নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়রা। কবে কিভাবে ফিরবেন তা ভেবে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে পড়েছেন। আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশ রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা।
আটকে পড়া ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাদের ফিরতে দিচ্ছেনা। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে কোন সমস্যা নাই এখন কলেজ,হোষ্টেল বন্ধ থাকবো কোথায়। এছাড়া ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বাস,রেল ছাড়ছে না। হোটেল বন্ধ খাওয়ার ব্যবস্থা নাই। অমানবিক জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন সুত্রে জানা যায়, চিকিৎসা,ব্যবসা,ভ্রমন ও বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষা গ্রহনে বিপুল পরিমানে ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন। তাদের অনেকে ফিরতে পারেনি। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানীতে কাজ করতে আসা সাধারণ ভারতীয়রা অনেকে আটকা পড়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আহসান হাবিব বলেন, সোমবার ২৩ মার্চ বিকাল পর্যন্তও বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়রা নিজ দেশে ফিরছিলোন। হঠাৎ করে বিকাল ৫ টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ভারতীয়দের ফেরত নিবে না জানিয়ে দেয়। নির্দেশনা পাবার পর থেকে ভারতীয়রা ফিরতে পারছেনা। তবে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য করোনা সংক্রামণ রোধে এর আগে গত ১৩ মার্চ বিকাল ৫ টা থেকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। পরে ১৫ মার্চ দুই দেশের মধ্যে বাস,বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে।
আর ২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি,রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়।



