এবার শিষ্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ করলেন ভন্ডপীর

দি নিউজ ডেস্কঃ দেশে-বিদেশে ভণ্ড পীরদের ভণ্ডামীর যেন শেষ নেই। এবার এক ভণ্ড পীর শারীরিক নির্যাতন করেছেন তারই এক শিষ্যের স্ত্রীকে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মুলজান গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় প্রথমে গ্রাম্য শালিসে বিচারের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। ওই ভণ্ডপীর বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের ওই ভণ্ড পীরের নাম আবু তাহের (৫৭)। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের ভাটবাউর গ্রামে। ওই কবিরাজ ও কথিত ভণ্ড পীরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনেরা। পরে তাহের নামের ওই ভণ্ড পীরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাও হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার হলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। প্রথমে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দিঘী ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে পীরের বিরুদ্ধে বিচার আয়োজন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা। বিচারে সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লীর চর গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, তিনি ওই পীরের শিষ্য। স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পীরের কাছে যান। পরে কথিত পীর তাহের তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

গ্রাম্য আদালতে কথিত ওই ভণ্ড পীরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। তিল্লীর চর গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী হানিফা বেগম বলেন, ‘তার স্বামী রহিমের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রহিমের জামিন করানোর কথা বলে তাহের ৩৮ হাজার টাকা নেন। তিনি সেই টাকা আত্মসাৎ করেন।’ এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষ ভণ্ড পীর তাহেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কথিত পীর আবু তাহের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজ সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেন। কলেজে ভর্তি ও চাকরির কথা বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও অনেক ঘটেছে।’ তিনি অনেক নারীরও সর্বনাশ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গ্রাম্য আদালতের প্রধান বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা উপস্থিত সকলকে জানান, এসব অভিযোগ ফৌজদারী হওয়ায়, এসবের বিচার গ্রাম্য আদালতে এখতিয়ারের বাইরে। এরপর পরিষদ প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনেরা ভণ্ড পীর তাহেরকে গণপিটুনি দেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এসে পীরকে আটক করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান বলেন, ‘লুৎফর রহমান এক ব্যক্তি ওই পীরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এরপর অভিযুক্তকে বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে ওই ভণ্ডপীর কারাগারেই আছেন।’

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।