কৃষকদের স্বার্থে জাতীয় কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কৃষকদের স্বার্থে জাতীয় কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
কৃষকদের স্বার্থে জাতীয় কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের কৃষকরাই দেশ গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি দেশের অন্যতম ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় খাত। কৃষকের শ্রম, ঘাম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে দেশে কৃষি উৎপাদন অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য দ্রুত ও সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষক যেন উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সেজন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষকদের উন্নয়ন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমান সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বলেও জানান তিনি। সহজ শর্তে স্বল্প সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এসব উদ্যোগের সুফল শিগগিরই কৃষকেরা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণের সুযোগ, কৃষকদের স্বীকৃতির জন্য কৃষক দিবস পালন ও জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব এবং বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে কৃষকদের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহের দাবিও জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ খাতে বড় সম্ভাবনাও রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে কৃষক সমিতির সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে শিল্প-কারখানা স্থাপন, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং খামারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

কৃষক সমিতির সভাপতি জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি ওই মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।