পদোন্নতি-নিয়োগে হিন্দুদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রতিনিধিদের

পদোন্নতি-নিয়োগে হিন্দুদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রতিনিধিদের
পদোন্নতি-নিয়োগে হিন্দুদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ

প্রশাসনিক পদোন্নতি, আইনি কর্মকর্তা নিয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় পদে সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ঘোষিত ৮ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রতিনিধিরা এসব দাবী জানান।

প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষপর্যায় এবং বিচার বিভাগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব উদ্বেগজনকভাবে কম। বর্তমানে সচিবালয়ের ৭৮ জন সচিবের মধ্যে একজনও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নেই। সম্প্রতি ১৭৫ জন যুগ্ম সচিবের পদোন্নতি হলো অনেক হিন্দু কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগে মাত্র একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি স্থান পেয়েছেন। তবে উপ-সচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ায় ধন্যবাদও জ্ঞাপন করছি। আপনারা সরকারে আসছেন মাত্র ছয় মাস, সেজন্য সবকিছু রাতারাতি হয়ে যাবে—সেটা চাই না। কিন্তু শুভ সূচনা চাই।

​তারা আরও জানান, রাজনৈতিক পদায়ন ও নিয়োগেও কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। যারা বছরের পর বছর রাজনৈতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছেন বা বিরোধী মনোভাবের শিকার হয়েছেন, তাদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ প্রদান ও সঠিক পদায়নের দাবি জানান তারা।

​প্রতিনিধিরা বলেন,  ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার জন্য বোর্ড আছে। কিন্তু আমাদের দেবোত্তর সম্পত্তি—১০ হাজার একর দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। এই দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে একটা ‘দেবোত্তর বোর্ড’ গঠন করা প্রয়োজন। এগুলোর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দের দরকার নাই। আমরা জানি আপনি বিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং বিধ্বস্ত আইন-শৃঙ্খলার ওপর এসে দায়িত্ব নিয়েছেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরা হয়:

​হিন্দু ধর্মীয় ফাউন্ডেশন গঠন: ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-কে পূর্ণাঙ্গ ‘হিন্দু ধর্মীয় ফাউন্ডেশন’-এ উন্নীতকরণ।

​দেবোত্তর বোর্ড ও আইন প্রণয়ন: দেশের আনুমানিক ১০ হাজার একর বেদখল হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার ও সুরক্ষায় অবিলম্বে কোনো বাড়তি বাজেট ছাড়াই ‘দেবোত্তর বোর্ড’ গঠন করা।

​৮ দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন: নির্বাচন ও আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে উপস্থাপিত ৮ দফা দাবির দ্রুত ও পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন।

​বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র, সংবিধান কিংবা সরকার—কোনো ক্ষেত্রেই যেন সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের স্থান না থাকে। কারণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামো অসাম্প্রদায়িক না হলে সমাজের প্রকৃত বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।