জেনে নিন শিবরাত্রির তাৎপর্য

ভারত ও নেপাল-জুড়ে পালিত হচ্ছে মহাশিবরাত্রি। এক বছরে মোট ১২টি শিবরাত্রি উদযাপিত হয়। তার মধ্যে ফাল্গ‌ুন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীর দিন যে শিবরাত্রি পালিত হয় তাই সবথেকে মাহাত্ম্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি মাসেই কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে শিবরাত্রি হয়। মহাশিবরাত্রি পালনের কারণ হিসেবে হিন্দু পুরাণে একাধিক কাহিনি পাওয়া যায়।

প্রথম গল্প বলছে, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের পরে এক পাত্র ভয়াবহ বিষ ওঠে। সেই বিষের ঝাঁঝে অবসন্ন হয়ে পড়ে গোটা সৃষ্টি। সেই সময় সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন মহাদেব। ভয়ানক সেই গরল তিনি আপন কন্ঠে ধারণ করেন। বিষের তীব্রতায় তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। এই কারণেই শিবের আরেক নাম নীলকণ্ঠ। ফাল্গ‌ুন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে কালকূট বিষ পান করে মহাদেব সৃষ্টি রক্ষা করেছিলেন বলে এই দিনটিতে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়।

অন্য একটি গল্প বলছে, একবার ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে প্রচণ্ড গোলমাল বাধে। কে দেবতা হিসেবে শ্রেষ্ঠতর, সেই নিয়ে ঝামেলা বাধে দু-জনের মধ্যে। তখন মহাদেব রেগে গিয়ে আগুনের রূপ ধারণ করেন। সেই আগুন গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমান। ব্রহ্মা ও বিষ্ণু তখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে কে আগে আগুনের শেষ খুঁজে বের করতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় নামেন। কেউই তা না পেরে বিষ্ণু ও ব্রহ্মা দু-জনেই এই দিনে শিবলিঙ্গের পুজো করেন।

অন্য কাহিনিতে মহাশিবরাত্রির সঙ্গে শিব ও পার্বতীর বিয়ে জড়িত। ফাল্গ‌ুন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীর দিনই শিব-পার্বতীর বিয়ে হয়। তাই এই দিনে শিবলিঙ্গের পুজো করে মেয়েরা শিবের মতো জীবনসঙ্গী প্রার্থনা করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।