ঢাকা: দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ আন্তর্জাতিক সনদ পরিপালনে বাংলাদেশের যে অঙ্গসংীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
কমিশনের রূপরেখা ও বৈচিত্র্য: একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে, যেখানে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রতিনিধিত্বমূলক বাছাই কমিটি: কমিশনারদের নির্বাচনের জন্য গঠিত বিশেষ বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সহজ অভিযোগ ও তদন্ত ব্যবস্থা: অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ব্যক্তির নিরাপত্তা ও ক্ষতি রোধে তদন্ত চলাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।
জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (NPM) গঠন: জাতিসংঘের ‘নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’ (OPCAT) অনুসরণ করে হেফাজতে নির্যাতন, গুম ও মৃত্যু প্রতিরোধে কমিশনের অধীনে একটি বিশেষ ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ (NPM) ইউনিট চালুর বিধান রাখা হয়েছে।





