নিউইয়র্ক, ১৬ জুলাই ২০২৬: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) তাদের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে সমর্থন
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ সমর্থনের কথা জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে।
বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, রপ্তানি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ, চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর এবং কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি পেলে সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই ও স্থায়ী করা সম্ভব হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ার রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭-এর পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল স্বাগত জানায়।
বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইইউ ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।



