টাঙ্গাইলের মধুপুর হাটে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরদের ক্যাডার বাহিনী

টাঙ্গাইল থেকে অলক দাস ॥  দোকান উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারার মামলায় আদালতের নোটিশ পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রনাধীন হাটের সপ লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

বুধবার মেয়রের বাহামভূক্ত লোকজন পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মধুপুর হাট থেকে দখলদার উচ্ছেদ, শর্তভঙ্গকারী বেআইনি সপ লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। শেষে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেই ওই হাটে তাণ্ডব চালিয়ে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে মেয়রের লোকজন। বাধা দিতে গিয়ে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এতে পৌরসভার কাউন্সিলররা সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন কর্মসূচি এবং পরে বিক্ষোভ করে উপজেলা প্রশাসন ক্যাম্পাসে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে দুপুরে প্যানেল মেয়র জাকিরুল হক ফারুক ও পৌর কাউন্সিল বাশার, আমজাদ ও হুমায়ুনের নেতৃত্বে তাদের ক্যাডার বাহিনীরা হাটে গিয়ে বারেকের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। এসময় তাদের বাধা দিতে গিলে ব্যবসায়ী বারেককে মারধর ও তার পকেটে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত হাটের ভাঙচুরকৃত দোকানের স্থানে সন্ত্রাসীরা পাহারা বসিয়ে রাখে। সম্প্রতি পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আদালতে মামলা করে। আদালত মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

মধুপুর পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাজার কমিটির সদস্য আকবর হোসেন, মধুপুর আদর্শ ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বিএসসি ও মধুপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহাম্মেদ সজীব প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী হাটখোলা থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও শর্ত ভঙ্গকারী বেআইনিভাবে প্রাপ্ত সপ লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও শ্রেণি পেশার মানুষ বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মধুপুর ব্রিজ থেকে মার্কেট এলাকা পর্যন্ত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণ করে।

এতে যুবলীগ নেতা খন্দকার আলমগীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র (১) জাকিরুল হক ফারুক, হুমায়ুনসহ পৌরসভার অনেকেই একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন। উল্লিখিত দাবিসহ আধুনিক নগরায়নে হাটবাজার উন্নয়নের পরিকল্পনা বাধাহীন বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা প্রশাসককে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদান করে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের আদেশের তোয়াক্কা না করেই নিজেরাই হাটে উচ্ছেদের নামে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে মধুপুর হাটের ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে রয়েছে।

প্যানেল মেয়র জাকিরুল হক ফারুক তার বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ দোকান ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি অবহিত হন। হাটের উন্নয়নে টেন্ডারপ্রাপ্ত এলজিইডির ঠিকাদার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন বলেন, জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি হাট-বাজারের পৌরসভা বা অন্য কেউ দোকানপাট উচ্ছেদ ও বরাদ্দ দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। বুধবারের হাটে দোকান ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়টি বিস্তারিত জানতে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছেন।

উল্লেখ্য, মধুপুর মৌজাস্থ ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৩২৯, ৩৩০, ৩৩১ দাগের তিন দশমিক ৭৭ একর জমি পেরীফেরীভুক্ত। ওই ভূমির মালিক সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক। এই পেরীফেরীভুক্ত জমির উপর নির্মিত হয় মধুপুর হাট। গত ২০০০ সাল থেকে এ হাটের প্রতিবছর নবায়ন পূর্বক প্রতিবছর হিসেবে প্রতিটি দোকানের লীজ প্রদান করেন উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে ওই হাটে সপ লাইসেন্স লীজকৃত দোকানের পরিমাণ ৪৭টি। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আনোয়ারুল হক ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দোকান উচ্ছেদের প্রতিবাদ শুরু করেছে। এর আগে গত বুধবার মধুপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনেও পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।