ইহুদিরা বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের মনোনীত জাতি

প্রতিবেদক দেবাশীষ মুখার্জীঃ  ইহুদিরা বিশ্বাস করে, তারা ঈশ্বরের মনোনীত জাতি। Old Testament – এ ঈশ্বর ইহুদিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “তোমাদের একশো জনের মধ্যে আমি দশ সহস্র লোকের ক্ষমতা প্রদান করেছি।…তোমরাই নিয়ন্ত্রণ করবে পৃথিবী, সংখ‍্যায় তোমরা যতই কম হও না কেন…”

ইহুদিরা সংখ‍্যায় অত্যন্ত কম।কারণ ইহুদি মাতার সন্তান ব‍্যতীত,কেউ ইহুদি হতে পারে না।এই ইহুদি-কূলে জন্ম নিয়েছিলেন যীশু।
যীশু বললেন,”আমরা মনোনীত ঠিক আছে, অন্যদের উদ্ধার করবে কে ! আমি এসেছি,সবাইকে উদ্ধার করতে।”
এজন্য যীশুকে বলা হয় ত্রাণকর্তা বা খ্রীষ্ট।

যীশুখ্রীষ্ট-কে প্রশ্ন করা হলো,”ধর্ম কি?”
তিনি বললেন,”মানব সেবা।”
“আদর্শ কি?”
“শিশুর মতো সরল হও।ক্ষমা করো,ত‍্যাগ করো।”

যীশুর হাতে কোন অস্ত্র ছিল না।কোন তরবারিধারী যোদ্ধাও তাঁর সঙ্গে ছিল না।তাহলে যীশুর অনুসরণকারীরা বিশ্ব জয় করলো কিভাবে ?
একটাই তাদের হাতিয়ার ― ‘মানব সেবা’।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর যেখানেই বুভুক্ষু-দুর্গত-ব‍্যধিগ্রস্থ অসহায় মানুষ, সেখানেই সেবা-ব্রত নিয়ে হাজির হয়েছে – যীশুর অনুসারীরা।

৮০ বছর বয়সেও আব্রাম বা জাতির পিতা নিঃসন্তান ছিলেন।ঈশ্বর বললেন,”আকাশে যত তারা,সাগরে যত ঢেউ – তোমার সন্তান সংখ্যা হবে তেমনি অগনিত।”
আব্রাম হয়ে গেলেন আব্রাহাম।অর্থাৎ জাতির পিতা থেকে জাতি-সমূহের পিতা।আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে,যীশুর অনুসারীর সংখ্যা সবথেকে বেশি।মানব সেবার মধ্য দিয়ে,খ্রিষ্টানরা বিশ্ব-বিবেক জয় করে নিয়েছে।পৃথিবীর যত উন্নত-আধুনিক-শক্তিশালী রাষ্ট্র ; তার প্রায় সবই খ্রিষ্টান অধ‍্যুসিত।যেমন আমেরিকা-রাশিয়া-জার্মানি-বৃটেন-ফ্রান্স ইত্যাদি।বিশ্ব-অর্থনীতির সিংহভাগ খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলোর হাতের মুঠোয়।

পৃথিবীর অধিকাংশ চাষযোগ্য জমি ও জল সম্পদ যেমন খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলোতে – তেমনি অপরিমিত খনিজ সম্পদ ঐ রাষ্ট্রগুলোর মাটির নিচে।সামরিক শক্তির বিবেচনায়,খ্রিষ্টান পরাশক্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কি কারো আছে ? সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে – জ্ঞান সম্পদের দিক দিয়ে, খ্রিষ্টান আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো অপ্রতিদ্বন্দ্বী।খ্রিষ্টানরা বলে, “আমাদের সেবা-ধর্মে খুশি হয়ে,ঈশ্বর এত কিছু দান করেছেন।”

ভারতীয় সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী,যে ২৪ টি বিশেষ গুণকে ধর্ম বলা হয়েছে, তার মধ্যে কি খ্রীষ্ট ধর্মের ‘সেবা-ক্ষমা-ত‍্যাগ’ – এই তিনটি নেই ?
তাহলে আমরা কেন ভারতবর্ষের পাহাড়-জঙ্গল-সাগরের সীমা অতিক্রম করতে পারলাম না ?
কেন আমরা হাজার বছর পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে – নিজভূমে পরবাসী হয়ে, ক্রমাগত ক্ষয় হয়েছি ? আমাদের বংশীয় বর্ণবাদী গুরু-পুরোহিতরা,সমাজ থেকে লোক তাড়িয়েছে ; বাইরে থেকে লোক ঢুকতে চাইলেও ঢুকতে দেয় নি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।