সিন্ডিকেট ভাঙতে ও অভিবাসন খরচ কমাতে ভিসা বেচাকেনা বন্ধের পরামর্শঃ ইসরাফিল আলম এমপি

শুভো: অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় কোকাসের সমন্বয় সভায় ভাষণকালে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এবং অভিবাসীদের অধিকার প্রচারক বুধবার জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সভা কক্ষে তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা প্রতিনিধি দলকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্ট দের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং অভিবাসন খরচ কমাতে ভিসা কেনা বেচা বন্ধের জন্য মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় কোকাসের সভাপতি জনাব মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি। জনাব মোঃ আয়েন উদ্দিন এমপি এবং জনাব মোঃ সেলিম তরফদার এমপি সকলের পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করেন। সংসদ সদস্য জনাব মোঃ ইসরাফিল আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের জন্য ২০ই এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
মাইগ্রেশন ফোরাম ইন এশিয়া (এমএফএ) এটার আয়োজন করেন। নেপাল ও বাংলাদেশের সংসদ একটি দল মালয়েশিয়ার সরকারের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, মালয়েশিয়ার মানবধিকার কমিশন, অভিবাসী সম্প্রদায় , সুশীল সমাজ, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিদেশী মিশন নিয়ে আলোচনা করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক ও রেফিউজি এন্ড মিগ্র্যাটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর সি আর আবরার বলেন, সংসদীয় কোকাসের সদস্যদের কণ্ঠস্বর নির্ভীক হওয়া উচিত যাতে করে বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকরা তাদের মর্যাদা নিয়ে কাজ করতে পারে। আরও বলেন কিছু নিয়োগকর্তার জন্য আমাদের অনেক শ্রমিক গন্তব্য দেশে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান জনাব সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, ২০০৮-২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক প্রেরণ করা হয় কিন্তু সেখানে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
সংসদীয় কোকাসের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনে অংশগ্রহণকে মাইলস্টোন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিনিধি দলকে খুঁজে বের করতে হবে যে, মালয়েশিয়াতে জি-জি প্লাস ভিসার অধীনে বাংলাদেশী শ্রমিকরা চাকরি পেয়েছে কিনা না।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকুপ) এর চেয়ারম্যান জনাব শাকিরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াতে শ্রমিক প্রেরণ করে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগকারী গোষ্ঠীকে খুঁজে বের করা উচিত। ভিসা কেনা বেচা এর সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নামও সনাক্ত করা উচিত।
ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব জনাব ফারুক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকদের মালয়েশিয়াতে নিকৃষ্ট মানের বাসস্থানের যোগান দেয়া হয় এবং সেখানে তাদের থাকতে বাধ্য করা হয়। নিয়োগকর্তার উচিত তাদের অধিকারের বিষয়গুলা নিশ্চিত করা। তাছাড়াও মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে অভিবাসী শ্রমিকের উপর লেভি আরোপের বিষয়টি কর্তন করা উচিত।
বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এসোসিয়েশন এর পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, অনথিভুক্ত কর্মীরা চাকুরী না থাকার কারণে মালয়েশিয়াতে খুব খারাপ অবস্থায় আছে। সেখানকার জেল কিংবা হাসপাতালে কতজন শ্রমিক দিন কাটাচ্ছে সেটার একটা তালিকা করা উচিত।
 বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান জনাব নাজমুল আহসান বলেন, বাংলাদেশী দূতাবাসের সরকারি কর্মকর্তাদের অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক জনাব সেলিম রেজা বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। একইসাথে তিনি দক্ষ শ্রমিক প্রদানের উপর জোরদার আরোপ করেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক জনাব তাজুল ইসলাম বলেন, সকল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ভিসা কেনা বেচা বন্ধে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে করে অভিবাসন ব্যয় কমানো যায়।
বায়রার যুগ্ম মহাসচিব জনাব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, যৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় ঠিক করা উচিত এবং সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে তা মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে প্রচার করা উচিত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।